বৃহষ্পতিবার, ২২ জুলাই, ২০১০

গোপন রহস্য ফাঁসঃ বিশেষ দলের নিউজ করবার সময় সাংবাদিকদের গঞ্জিকা সেবন বাধ্যতামূলক

(প্রথম পর্ব) বিশেষ সংবাদদাতাঃ
অবশেষে প্রকাশিত হলো বাংলাদেশের তথাকথিত স্বনামধন্য পত্রিকাগুলোর সাম্প্রতিক চমৎকার পারফর্মেন্স এর নেপথ্য রহস্যটি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দৈনিক তালের কন্ঠ ও বাংলাদেশী পলিথিন পত্রিকার দুজন স্টাফ রিপোর্টার এক ঘরোয়া আড্ডায় এ রহস্য প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বিগত ১/১১ এর পর এ চমকপ্রদ ধারনাটি সফলতা পাবার পর এ বছরের জুলাই মাসের শুরু থেকেই পত্রিকা কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ ইসলামী দলের নিউজ কাভার করার আগে বা ডেস্ক রিপোর্ট তৈরী করার আগে সংশ্লিষ্ট বীট কাভার করেন এমন সাংবাদিকদের গঞ্জিকা সেবন বাধ্যতামূলক করেছেন। এজন্য প্রকাশক কর্তৃপক্ষ আলাদা ''গঞ্জিকা ভাতা'' বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছেন। পুরো ব্যাপারটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে করা হচ্ছে বলে তারা এই প্রতিবেদককে জানান। কথা প্রসঙ্গে আরও জানা যায় সরকারের নির্দেশ ক্রমে দৈনিক বিয়োগান্তর, বদলে ফেলো, স্ব-মাতাল, র-কন্ঠ, আমাদের দুঃসময়, ইজ্জতফাক, ইনকি-ব্লাফসহ আরো কিছু ইলেকট্রনিক মিডিয়া যেমন চ্যানেল নাই, চ্যানেল শেষ, চ্যানেল ইভারহমান এর সাংবাদিকদের জন্য প্রতিদিন সংবাদ লেখার পূর্বে গঞ্জিকা সেবন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তারা জানান, কর্তৃপক্ষের ধারনা সেবনের পর থেকে পত্রিকার কাটতি প্রায় দেড়গুন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে পত্র দেয়া হয়েছে। তবে তারা এজন্য কিছু কিছু সমস্যায় পড়ছেন বলে জানা গেছে। যেমন একই রিপোর্টে সত্য মিথ্যা উভয়ই লিখে ফেলায় পাঠক এর বিশ্বাস যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন এবং পত্রিকা অফিসে গালাগাল দিয়ে জন সাধারন ফোন করছেন। এ সমস্যার তড়িৎ সমাধানে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ইন্ডিয়ার তৈরী ‌পুরাতন '' জেএমবি'' ব্র্যান্ডের গঞ্জিকার বদলে ইসরাইলী ফর্মুলায় তৈরী, আফগানিস্তান থেকে ''তালেবান'' ও '' আল-কায়েদা'' ব্র্যান্ডের গঞ্জিকা সরবরাহের ব্যবস্খা নিচ্ছেন। (দ্বিতীয় পর্বে সমাপ্য)

এমন ''ডেডিকেটেড'' কর্মী ইসলামী আন্দোলনে থেকেও কি লাভ??


ইসলামী আন্দোলন করেন বা মন দিয়ে ভালোবাসেন এমন অনেককেই দেখি বড় বড় গলায় নানাভাবে প্রমাণের চেষ্টা করেন তিনি ইসলামী আন্দোলনের জন্য জিন্দাদীল মুজাহিদ। গলা উঁচু করে বলেন, ভাই যে কোন সময় ডাক এল ময়দানে সব কিছু ত্যাগ করে ঝাঁপিয়ে পড়ব। ব্যবসা-বানিজ্য, চাকুরী, দুনিয়াবী সহায় সম্পদ তো কিছুই নয়, যে কোন সময়ে ডাক এলে জীবনটা পর্যন্ত দিয়ে দিতে পারি। আশে পাশের লোক উদ্বেলিত হয়, অবাক চোখ তার দিকে তাকিয়ে ভাবে আর মনে করে, আহা! কতইনা ডেডিকেটেড। সংগঠনের প্রতিটি লোক যদি এমন হোত, তাহলে এতদিনে পুরো সিনারিওটাই বদলে যেত।
এ জাতীয় লোকদের সংখ্যা অল্প তবে একবারে কমও নয়। মাঝে সাঝে সুযোগ পেলেই গাল ভরা বুলিতে শুনিয়ে দেন, তার ছাত্রজীবনের বীরত্বের গাঁথা নানা কাহিনী। তিনি না থাকলে তখন সেখানে নাকি সংগঠন নামক বস্তু কি, তা-ই মানুষ জানত না। বলতে বলতে আবার খানিক দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন, তাদের সময়টা ছিল স্বর্নযুগ। আর এখনকার ছেলে-পেলে, কি যে হলো, এদের কোন লেভেলই নেই। কি যে হবে আগামীতে ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। আমাদের সময়ে আমরা বিরোধীদের টনক নাড়িয়ে দিয়েছি, আর এখন সব কেমন যে ম্যান্দা মারা।
অহরহ এ জাতীয় ‌‌'' অতি ডেডিকেটেড' ভাইদের মুখোমুখি হই। কিন্তু তারা নিজেরাও বোঝেন না যে নিজের অজান্তেই আল্লাহর অসন্তুষ্টির কোপানলে পড়ে যাচ্ছেন, হেরে যাচ্ছেন নিজের তৈরী করা গর্তে পতিত হয়ে।

হায়! তাদের ক্যারিয়ার, ব্যবসা-বানিজ্য, চাকুরী আর সংসারসহ ব্যক্তিগত ব্যস্ততা আজ এতটাই বেশি, আজ সেই ''গালভরা'' ডেডিকেশন দেখাবার সুযোগই হয়না। যখনই কোন কর্মসূচীর ব্যাপারে বলা হয়, জবাব আসে;
১)ভাই! বুঝবেন তো না। আমার মতো সমস্যা যদি আপনার থাকত, তাহলে এভাবে বলতেন না।
২)কি করব বলেন? মনটা পড়ে ছিল, কিন্তু শত চেষ্টাতেও ম্যানেজ করতে পারলাম না। আগামীতে যে কোন কর্মসূচী আসুক, ইনশাল্লাহ মিস হবেনা। (সে আগামী আর আসেনা)।
৩)ইস! এমন সময় খবরটা দিলেন ভাই, হাত পা একদম বাঁধা। একটু আগে যদি জানাতেন, আমি যেভাবে হোক ম্যানেজ করতাম। এখন আপনি বলুন, কি করি?
৪)যাক! আসলে অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এবারই শুধু মিস করলাম। সামনের বার কিন্তু আমাকে না জানালে আমি ভীষণ মাইন্ড করব ( কিন্তু মাইন্ড করবার সময়টিও যে নেই)।
৫)এটা কোন প্রোগ্রামের টাইম হল? উনারা কি আমাদের মতো চাকুরী করেন নাকি? দু পাঁচটা অফিস চালাতেন, বুঝতেন আমাদের কি জ্বালা?
৬) আজকে আপনাদের কেন্দ্রীয় নেতা অমুক-অমুকের কারনেরই এ অবস্থা। কি জন্য নির্বাচনে গেল? কে বলেছিল সংসদের যেতে? আমি আগে থেকেই এসব পছন্দ করতাম না।

কর্মসূচী আর করনীয় নিয়ে এই ডেডিকেটেড ভাইদের অনেকে এমনই বারংবার বিরক্ত করার পর একসময় মিথ্যা বলতে থাকেন। এরপর হয়ে উঠেন অসহিষ্ণু। বলেন,
''ভাই! আমাকে ডাকাডাকি করবেন না। আপনাদের নেতাদের চেনা হয়ে গেছে। কে বলেছিল, বেশি বুঝে এমন কর্মসূচী দিতে? বারবার বলা হল, এভাবে করবেন না। এর দায়ভার কে নেবে? এমন অর্বাচীন নেতাদের সংগঠনে কাজ করা আর না করার কোন পার্থক্য নেই।''

হায়রে বিবর্তন। হায়রে সেক্রিফাইস! হায়রে তার সোনালী অতীত! সেই সব ছেড়ে দেবার দিনটি আর আসেনা।

রাবির ঘটনার পর সারা দেশে যে নির্মম নির্যাতন হয়েছে, প্রতিটি ঘরে ঘরে, মেসে মেসে হানা দিয়ে নির্মমতার চিরুনীতে শিকার হলো কতো নিরীহ মানুষ। মনে খারাপ লাগে তবু হৃদয়ে এতটুকু সাড়া জাগেনা। তিনি আবার বলেন, ''কে বলেছে জাগেনা। আপনি কি বোঝেন?''
আমি বলি, “আমি সত্যিই কম বুঝি। তবে এটা বুঝি, সত্যিই জাগেনা, সে তো মোহে পড়ে বধির হয়ে আছে।''

সর্বোচ্চ ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে চালানো হচ্ছে শতাব্দীর বর্বরোচিত নির্যাতন, যা পাক হানাদাররাও এদেশের তৎকালীন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতারের পরে চালায়নি। সর্বোচ্চ নেতাদের বন্দী করবার পর দুর্বলতম ব্যক্তিটিও প্রতিবাদে শামিল হয়েছে। সমর্থক বলে বছরের পর বছর যাকে হেলা করেছি, উদ্বেল হয়ে ফোন দিয়ে জানতে চায়,
''কোথায় যাব? কি নির্দেশ?''
আমিও শরমিন্দা হই, পরীক্ষার জালে বন্দী হয়ে আত্মগ্লানিতে ছটফট করি। হৃদয়ের কান্নাকে লুকোবার চেষ্টা করি।
''ভাই! কোন খবর জানা নেই? এলেই জানাবো। তবে সর্বাবস্থায় ধৈর্য্য ও সবর। কোন উষ্কানীতে, কোন সহিংসতায় কখনও নয়, কেননা ওরা চায় সে ফাদেই আমাদের পা পড়–ক।''
কোর্টে হাজিরার প্রথম দিন তো জনস্রোতে আর শুভকামনায় সব গ্লানি ভেসে যাবার কথা। হয়েছে হয়তোবা। কিন্তু আপনি কি ছিলেন?
ওহ হো! সময় তো হয়নি। জানি! সুবিধাজনক সময় আর আসবেনা। আর জীবন দেবার প্রয়োজন হবেনা।
আন্দোলন আপনার জীবন চায় না, এখন চায় সময়।
আপনার রোজগারের অংশীদারিত্ব।
আপনার দোয়ার অংশীদারিত্ব।
আপনার ডেডিকেশনের অংশীদারিত্ব।

আমার পরিচিত এমনই একজন 'ডেডিকেটেড'। মাঝে মধ্যেই কাছে এসে জিজ্ঞাসা করেন,
''ভাই! সংবাদ কি? মনটা খুব খারাপ। কিছু ভাল্লাগেনা। মনে হয় সব ছেড়ে-ছুড়ে নেমে যাই। উনাদের না নিয়ে যদি আমাকে নিত, তাও আল্লাহর কাছে বলতে পারতাম, সান্তনা পেতাম।''
আমি বলি, হুম! সংগ্রাম রাখেন না? অন্য সময় জানিনা, এ সময়ে তো প্রতিদিন এটা রাখার দরকার, পরিবারকেও পড়ানো দরকার। অন্যরা তো রুপকথা লিখছে। তো কালকের মিটিং এ গিয়েছিলেন নাকি?''
''নারে ভাই! আসলে দুনিয়াদার হয়ে গেছি তো। আর বাসার সবাই প্রথম আলো চায়, এর উপর সংগ্রাম রাখলে বাড়তি খরচ। তাই খবরও পাইনা। আমি একা মানুষ। দোকান ফেলে কেমনে যাই? তাই এখন ছোট-খাট মিটিং এ যাবার ফুরসত বের করতে পারিনা। আপনি গেছিলেন নাকি?''
''হুম! পরীক্ষার মধ্যেও মন মানল না, রওনা হয়েছিলাম। মাঝপথে যেয়ে শুনি সকলকে চলে যেতে বলা হয়েছে।''
হঠাৎ জানতে চাই, ''তো জরুরী তহবিলে সকলকে দানের কথা বলা হয়েছিল। আপনার খবর কি?''
''আচ্ছা! বলেন তো! একটা কথা হলো পুরো মাসেরটা দিতে হবে। উনারা কি আমাদের কথা ভাবেন?''
''ঠিক আছে! নাহয় অর্ধ মাস দেবেন। তা নাহলে সর্বোচ্চ যেটা সম্ভব, দেবেন। আল্লাহ তো সাক্ষী থাকলেন। তাইনা? ডেডলাইন তো এক মাস আগেই শেষ। তো দিয়েছেন কতো? ''
''ও তাই নাকি? আচ্ছা দেখি, কতো দিতে পারি।''
''সারা দেশে নফল রোযা রাখার কথা বলা হয়েছিল, তাতো মনে হয় রেখেছেন? নাকি তারও সময় হয়নি?
''এহ হে! তাই নাকি? কবে বলেন তো? আমি ভাই সত্যিই জানতাম না?''
''হুম!বুঝলাম। তো অ্যাট-লিস্ট প্রতি ফরজ নামাযের পর দোয়া করছেন, এটি তো আশা করতে পারি।''
''হে! হে! আরে সেটা বলা লাগে নাকি? ওটা তো দায়িত্ব। মনে পড়লেই করি। ভাই! ব্রাজিলের খেলা দেখছেন নাকি?” তিনি জানতে চাইলেন।
''আমি খেলা খুব একটা দেখিনা। আর এ সিচুয়েশনে খেলা দেখার মানসিকতা আসে নাকি?''
''কালকে দুই কেজি মিষ্টি কিনে পোলাপাইন খাইয়েছি ব্রাজিল হেরেছে, তাই। আজকেও পাঁচ কেজির টাকা রাখছি আর্জেন্টিনা জিতলে পোলাপাইন খাওয়ামু।''
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি, দৃষ্টি ঘোলা হয়ে আসে। এই কি সে ব্যক্তি, যে কিনা ছাত্রজীবনে হেই করেছি, হুই করেছি বলে গল্প দিয়ে আমাকে ঈর্ষান্বিত করত?
হায়রে কনসেপশন! হায় ডেডিকেশন!

এ অসহনীয় দুঃসময়ে মন উদ্বেলিত হয়না!!
সেক্রিফাইসের জন্য আরও অপেক্ষi করে যাচ্ছেন কবে আসবে সেই চুড়ান্ত সময়?
এর চাইতে দুঃসময়ের আশা, আপনি করেন কি করে?

আর কোন বিপদের জন্য অপেক্ষমান, আপনার সেক্রিফাইস?

আর কোন ধরনের নির্যাতনের জ্বালানী প্রয়োজন, আপনার ত্যাগের মহাযান উৎক্ষেপনে?

কিসের জন্য অপেক্ষা, হাজারো মজলুমের কন্ঠে কণ্ঠ মেলাতে?

আপনার খালি পায়ে হাঁটবার জন্য, আর কতো বেশি বর্ষা আর কর্দমাক্ত পথের প্রয়োজন?

আর কতো ডাকতে হবে, আপনার কুম্ভকর্ণের বেঘোর ঘুম ভাঙ্গাতে?

আর কি শুধু আপনার দুয়ারে হাত পাতার অপেক্ষা, পকেট হতে মহামূল্যবান দু-একশো টাকা উপঢৌকন পেতে?

ফেসবুক আর ব্লগে বসে, চ্যাট করে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেবার সময় হয়, যে আন্দোলনকে জীবন দিয়ে ভালোবাসি, তার জন্য এক কিলোবাইট খরচ করার কথা সত্যিই স্মরনে আসে না?
মোবাইলে শত-সহস্র মিনিট যায়, কাউকে মনে করে একটু বলা হয়না?
কলম দিয়ে সহস্র লাইন লিখে যাই, ভালোবাসা এ আন্দোলনের জন্য কলমের কালি শুকিয়ে যায়।
আপনি যে মনে ও মুখে এক নন, তা প্রমাণ করবার জন্য আর কিছুর দরকার আছে কি?
অবচেতন আপনার মন হয়তবা ভাবছে, আমি তো নিরাপদেই আছি, ক্ষতি কি?
এ আত্মবিশ্বাস ক্ষণিকের। আপনার ক্যারিয়ার, আপনার ব্যবসা, আপনার ব্যস্ততার যত নিয়ামক আর আপনার রেখে যাওয়া প্রিয় উত্তরসূরী, যার জন্য আজ আন্দোলনে দেবার মতো সময় নেই, সে কিংবা সবকিছু যে আগামী যে কালো মেঘে ছেয়ে যাবেনা, তারও বা কি গ্যারান্টি আছে নিজের কাছে?
অনাগত যে ঝড় আসছে, তাতে ক্ষুদ্রকায় বৃক্ষটিও যে ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি পড়ছে।
সেক্রিফাইসের সুযোগ যদিওবা আসে, আপনি নিশ্চিত থাকুন মহান আল্লাহর অতো ঠেকা নেই, আমাদের সে সেক্রিফাইস নেবার? বলে কয়ে ''মহা মূল্যবান'' যে সেক্রিফাইসের জন্য তসবিহ গুনছি, তার কানাকড়ি মূল্য নেই আল্লাহর কাছে।
বিশ্বাস করুন! সত্যিই নেই।

সময়ে যে ক্যারিয়ার ত্যাগের জন্য এগিয়ে আসে না, সে ক্যারিয়ার সত্যিই কি আপনাকে-আমাকে মুক্তি দেবে? আল্লাহই ভালো জানেন।

সন্তান-পরিবার আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে রাত বারটায় ব্রাজিলের খেলা দেখবার সময় নিশ্চয়ই স্মরণে থাকবার কথা নয় সে সময়টিতেই শহরের আরেক গলিতে কবরের মতো চাপা, প্রচন্ড গরমে ফ্যানহীন ঘরে, তিনশত পাওয়ারের বাতির নিচে আপনার ''কথিত'' প্রিয় লোকগুলোর প্রভুর কাছে সাহায্য চেয়ে দীর্ঘশ্বাস! মনের চোখ দিয়ে আপনার দিকে একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে থাকবার কথা।
নিশ্চয়ই কল্পনাতে আসে না ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনে আক্রান্ত পিতাকে একবেলার একটু খাবার, প্রেসারের ওষুধ কিংবা ইনসুলিন পৌছে দেবার জন্য জালিমের বন্ধ দরজায় সকাল থেকে রাত্রি বারটায় শুকনো মুখে বসে থাকা সন্তানগুলোর কথা।
বিবেকের দুয়ারে সত্যিই কড়া নাড়েনা প্রিয়তম পিতাকে এক নজর দেখবার অপরাধে নিরপরাধ সন্তানটির দুদিনের রিমান্ড আর অনির্দিষ্ট কালের জন্য হাজতবাসের ঘটনা।

সত্যিই! বিপদ যখন আমার নয়, তখন এতটুকু চেতনাতে আসবার কথা নয় যে হলে না থাকতে পেরে বাবার টাকার খরচ করে মেসে থাকা ছেলেগুলো পালিয়ে পালিয়ে বেড়ানো আর খুনে ডাকাতের মতো ফেরার হওয়া, পরীক্ষা না দিতে পারার বেদনায় গুমড়ে মরা চাপা কান্না। (সে তো আর আপন ভাই নয়!)

ধন্যি! আপনার ভালোবাসা। ধন্যি আপনার ডেডিকেশন! ধন্যি আপনার সেক্রিফাইস! ধন্যি আপনার আন্দোলনের ক্লিয়ার কনসেপশনকে।

(যে সিড়ি বেয়ে চিরন্তন শান্তির প্রত্যাশা, তার পথে আমার গতি কতটুকু? চেষ্টা কতটুকু? যা আছে তাকি যথেষ্ট, প্রিয় বন্ধ। আমিও যে আপনাদের মতো অপরাধী। আসুন না! আত্ম সমালোচনা করি। তওবা করি, আল্লাহ ক্ষমাশীল। তিনি রহমানুর রাহীম। তিনি পারেন ভুলকে ক্ষমা করতে, এর পরের কাজগুলো বিচার করে। আর দোয়া করি সেই প্রিয় মানুষগুলোর জন্য।)

এবার বিতর্কিত হতে চলেছে স্বয়ং যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল??

শিশু যখন গর্ভে থাকে, তখন তার আগমন পিতা মাতার কাছে যতই আকাঙ্খিত থাকুন না কেন, নয়টি মাস অপেক্ষা করতেই হবে। তাড়াহুড়ো করে সময়ের আগেই তাকে জোর করে ভুমিষ্ট করাতে গেলে যা হবে, তা হলো মৃত শিশু প্রসব। আর যদিওবা শিশুটি বেঁচে থাকে, তাহলে তার পঙ্গু বা প্রতিবন্ধী হবার সম্ভবনা প্রায় শতভাগ। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতাকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেবার পর থেকেই সুধী মহল বারংবার সতর্ক বানী উচ্চারন করে আসছিলেন, যেন প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হয়,আইনগত যত ফাঁক-ফোকর তা যেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে সকল কর্ম সম্পাদন করা হয়। প্রয়োজনে আরও সময় নেয়া হোক, কিন্তু চল্লিশ বছরেও যে কাজটি করা সম্ভব হয়নি, তা যেন কারও নিবুর্দ্ধিতার কারনে ভেস্তে না যায়। এ বিচারকে দলীয় স্বার্থসিদ্ধীর বাহনে যেন পরিণত করা না হয়। কিন্তু সুধীজনের বলাই সার।

যা হয়েছে আর যা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমকে যেভাবে নাগরিকত্ব মামলায় নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল, আগামী দিনে এ সরকার নিজামী, মুজাহিদ, সাইদী, কামারুজ্জামান আর কাদের মোল্লাদের বিরুদ্ধে রাজাকার প্রচারণা মিথ্যা ছিল, লিখিত ও আইনসিদ্ধভাবে এই সার্টিফিকেট দেবার বন্দোবস্ত সম্পন্ন করেছেন।

মাথা ঠান্ডা করে একটু ভাবুন পরের বিষয়গুলো নিয়ে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যাবে সরকারের চরম নির্বুদ্ধিতা।

সরকারের নির্বুদ্ধিতাঃ

প্রথমতঃ
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে খ্যাতিমান আইনজীবিদের বাদ দিয়ে অখ্যাত ও দলীয় আইনজীবিদের নিয়ে (আর্থিক সুবিধা দলের লোকই ভাগ করে খাক- এই উদ্দেশ্যে) করা হয়েছে আইনজীবি প্যানেল। যারা জীবনে আইন পেশায় জাতীয়ভাবে নাম করতে পারেননি, তারা নাকি জাতীয় ইস্যুতে লড়বেন জামায়াতের বাঘা বাঘা ব্যারিস্টারদের বিরুদ্ধে। হায়রে! পাগল। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দীকি বীর উত্তম তো ভবিষ্যত বানীই করেছেন, বাছুর দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়তঃ
বিতর্কিত হয়েছে স্বয়ং যে সংস্থা যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করবে, সেই সংস্থাটিও। আওয়ামী লীগের মন্ত্রিরা বড় গলায় চেচালেন, পরিক্ষীত ব্যক্তিদের যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দুদিন না যেতেই রটে গেল 'সর্ষের মধ্যেই বসে আছে যুদ্ধাপরাধের ভূত'। অবশেষে মানুষের আস্থাকে দুমড়ে মুচড়ে রটনার দায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন যুদ্ধাপরাধ তদন্ত কমিটির প্রধান আব্দুল মতিন। এরপরে কোন অদৃশ্য কারণে প্রধান হিসাবে আজ পর্যন্ত কাউকে নিয়োগ করা হয়নি। উল্টো আইন মন্ত্রীর মুখ থেকে শোনা গেল এতো বড় জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় অপরাধের তদন্ত কমিটির নাকি কোন প্রধান থাকার দরকারই নেই। (আমরা সবাই রাজা!! সবাই প্রধান!!) নির্বোধ কাকে বলে? ষোল কোটি মানুষের দেশে একটা তদন্ত কমিটির প্রধান করতে কাউকেই পাওয়া গেল না?:-*

তৃতীয়তঃ
দশ কোটি টাকা বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ কোটি টাকা নাকি বাড়ী সংস্কারেই চলে গেছে। টেন্ডারে যাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তিনিও নাকি কোন মন্ত্রীয় নিজের লোক। আপন লোক বলে কথা! রেট তো বেশি হবেই, কারণ যিনি কাজ নিয়ে দিলেন, তাকে তো কিছু দিতে হবে, নাকি! পাঠক, আপনারাই বলুন পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে তো একটি বাড়ীই তৈরী করা সম্ভব। তার অর্থ হচ্ছে, জাতির আবেগ অনুভূতির জ্বালানী নিয়ে দলীয় কর্মীদের লুটপাটের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এ অর্থের হিসাব বের করতে নাকি আবার তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে (তদন্ত কমিটির কাচের স্থল নিয়ে লুটপাটের রহস্য উদ্ধারে তদন্ত কমিটি:-*)। অথচ যারা তদন্ত করবেন, তাদের গাড়ী নেই, থাকার বন্দোবস্ত নেই, অফিস নেই, পিয়ন নেই, প্রয়োজনীয় উপকরন নেই(হাওয়ায় ভেসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত চলবে)।X((

চতুর্থতঃ
যুদ্ধাপরাধ বিচারে সরকার পক্ষে লড়ার জন্য নাকি বহু চেষ্টার পরেও আইনজীবি পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ বেতন মাত্র তিরিশ হাজার টাকা। এত কেউ রাজী হচ্ছেন না? এ যুগে একজন আইনজীবির নূন্যতম আয় যেখানে এক লাখ টাকা, সেখানে প্রাইভেট প্র্যাকটিস ফেলে সার্বক্ষণিক ভাবে এত বড় কাজে আসবে কোন পাগল? সংসার চালাবে কে? (চালের কেজি তো এখন চল্লিশ পার)। ষোল কোটি মানুষের টাকা নিয়ে মন্ত্রী-এমপি সবার বেতন ডাবল হয় আর তাদের জাতীয় ইস্যুতে টাকা আসে গুণে গুণে।

সরকারের অর্বাচীনতায় এবার বিতর্কিত হতে চলেছে স্বয়ং যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল

সরকারে অর্বাচীনতা আর নির্বুদ্ধিতার আরও ছাপ আছে। অনুরোধ থাকবে মনোযোগ দিয়ে পড়ার। বিষয়টির বিপরীতে যুক্তিগুলো লক্ষ্য করলেই তা বেরিয়ে আসবে।
যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে হাইকোর্ট বিভাগের দু'বিচারপতির নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে গত ১৮ জুলাই,রোববার । আংশিক শুনানি শেষে সরকারের সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত এই রিট আবেদনের শুনানি মুলতবি করা হয়েছে। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি সৈয়দা আফসার জাহান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে এই রিট আবেদনের ওপর আংশিক শুনানি শুরু হয়।

রিট আবেদনে ‘হাইকোর্ট বিভাগের দু'বিচারপতি কোন ক্ষমতাবলে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন' তা জানতে চেয়ে রুলনিশি জারির আবেদন করা হয়েছে।

রিট আবেদনে স্বয়ং দুই বিচারক বিবাদী(!!!)ঃ
রিট আবেদনে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনারেল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সদস্য বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর এবং আইন সচিব ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

দেখুন যেসব যুক্তি দেয়া হয়েছেঃ

সংবিধানের ৯৪, ৯৬, ৯৯, ১০৯ ও ১৪৭(৩) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন করে হাইকোর্টের দু' বিচারপতিকে ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ৯৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিরা সুপ্রিমকোর্টে, হাইকোর্টের বিচারপতিরা হাইকোর্টে দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে তারা কখনই কোন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হতে পারেন না।

সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি বিচারপতিদের নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। বিচারপতিদের নিয়োগ এবং চাকরির শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণ করবে সংবিধান। কিন্তু রাষ্ট্রপতির আদেশে আইন সচিব সাধারণ আইনে অধীনে গঠিত ট্রাইবুনালে তাদের নিয়োগ দিয়েছেন।

সংবিধানের পরিবর্তে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে।

ট্রাইব্যুনাল আইনে বলা হয়েছে নিয়োগকর্তা (সরকার) তাদের বরখাস্ত করতে পারবেন। ফলে উচ্চ আদালতের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

তাদের নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী তাদের চাকরির শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণ করবেন রাষ্ট্রপতি। এমন কি তাদের চাকরির মেয়াদ বা অপসারণের বিষয়ও রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ করবেন।

সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট' নামে দেশে একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকবে। আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে এই আদালত গঠিত। যেকোন ট্রাইব্যুনালের উপরে হাইকোর্টের অবস্থান থাকবে। কিন্তু এক্ষেত্রে হাইকোর্টের বিচারপতিদের অধস্তন ট্রাইবুনালে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উদাহরন দেয়া হয়েছে, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এম এ আজিজের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ গ্রহণের বিষয়ে। বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ একটি রায় দিয়েছিলেন। ওই রায়ে সুস্পষ্ট বলা হয়েছে, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিরা অন্য কোথাও নিয়োগ পেতে পারেন না। তারা হাইকোর্টের বিচারপতি পদে থেকে অধস্তন ট্রাইব্যুনালে আসীন হয়েছেন । ফলে তাদের এই নিয়োগ সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করলে তাদের পক্ষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ আমাদের সংবিধানের অন্যতম মৌলিক কাঠামো। এই নিয়োগের ফলে তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এমন কি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর কুঠারাঘাত করা হয়েছে।

হাইকোর্টের দুই বিচারপতিকে নির্বাহী বিভাগের অধীনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে যিনি জুনিয়র তাকে আবার প্রধান করা হয়েছে ট্রাইবুনালের। এত করে মনে করা যেতে পারে অসুদুদ্দেশ্যে এ ধরনের নিয়োগ ও পদায়ন দেয়া হয়েছে।

যারা লড়ছেনঃ
সংবিধানের ১০২(২)(খ)(আ) অনুচ্ছেদের আওতায় সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি এডভোকেট নওয়াব আলী ও সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী গত ১১ জুলাই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
রিট আবেদনের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক শুনানিতে অংশ নেন। সরকার পক্ষে সহকারী এটর্নি জেনারেল রাশেদ জাহাঙ্গীর মামলা পরিচালনা করেন। শুনানিকালে সাবেক বিচারপতি টিএইচ খান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও এডভোকেট নজরুল ইসলামসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাককে শুনানিতে সহায়তা করেন এডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক।

দুইজন আইনজীবি বন্ধুর সাথে কথা বলার পর ব্যক্তিগতভাবে আমার ধারনা, এ বিষয়টিতে হাইকোর্ট ট্রাইবুনালের বিপক্ষে রায় দেবার সম্ভবনা শতভাগ। তার মানে হচ্ছে আওয়ামী লীগের নিবুর্দ্ধিতায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালও বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হতে যাচ্ছে।

যুদ্ধাপরাধের বিচারে আরও কতো নিবুর্দ্ধিতা অপেক্ষা করছে কে জানে?

সব ব্যাপারে যদি হাইকোর্টের নির্দেশনা লাগে তবে কি মানুষের বিবেকের প্রতি কোনই দায়বদ্ধতা নেই??


একটি জাতীয় দৈনিকের প্রধান শিরোনাম এ দেখতে পেলাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতার স্মৃতি সংরক্ষনে বিভিন্ন স্থানে মনুমেন্ট নির্মানের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এদশের শাসক-পরিচালক নামধারীদের ক্ষেত্রে 'বিচারের বানী নিভৃতে কাঁদে' বলে ইদানিং সব ব্যাপারে হাইকোর্টের রুল নেয়াটা কেন জানি মনে হয় একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে? মানুষের বিবেক বোধ এতটাই নিম্ন শ্রেনীতে চলে গিয়েছে, ন্যায়নীতি-ইনসাফ বোধের চেতনা এতটাই দৈন্যতায় ভুগছে, দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তি হতে শুরু করে সাধারন একজন মানুষ, শাসক শ্রেনী হতে জনগণ পর্যন্ত আজ এতটাই রোগাক্রান্ত যে নীতিকে বাস্তবায়ন করতে গিয়েও আজ সব ব্যাপারে হাইকোর্টকে অযাচিতভাবে নানা ধরনের নির্দেশনা দিয়ে করণীয় নির্ধারন করে দিতে হচ্ছে।
যেখানে সাধারন নীতিবোধই স্বাভাবিকভাবে তার করনীয় নির্ধারন করে দেয়, সেখানে যখন হাইকোর্ট নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত কাজ হয়না, তখন এ লজ্জার দায়ভার সত্যিই কি জাতি হিসাবে আমাদের সবার নয়?[/sb]

কিছু নমুনা দেখলেই বিষয়গুলো আরও পরিস্ফুট হবে.................

১.বিচারপতি মো. হামিদুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ২০০৩ সালে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড রোধে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার লিভ টু আপিল করে। তবে আপিল বিভাগ এমন শর্তে লিভ মঞ্জুর করেন, যাতে ওই নির্দেশনাগুলো সচল থাকে। গত মাসেও হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ পুলিশকে ২০০৩ সালের নির্দেশনা মেনে চলতে বলেছেন।

২. ১৪ মে যৌন হয়রানি রোধে কয়েকটি দিকনির্দেশনা উল্লেখ করে একটি নীতিমালা করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। সংসদে আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত এটি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট যৌন হয়রানি বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেছিলেন।

৩. বিচারপতি তারিক-উল-হাকিমের নেতৃত্বে দ্বৈত বেঞ্চ মাহমুদুর রহমানের রিমান্ড বাতিল আবেদনের শুনানি শেষে এ নির্দেশনা দেন যে আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আইনজীবীর উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তাকে কোনো নির্যাতন করা যাবে না।

৪. অবিলম্বে অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ শুরু করতে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন 'হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ' (এইচআরপিবি) আবেদনে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন ও বিচারপতি মো. দেলোয়ার হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণে সহযোগিতা করার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) ও ঢাকার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

৫.অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ হবে, নদী খেকোদের সরকার নিজ দায়িত্বে রাষ্ট্রীয়ভাবেই উচ্ছেদ করবে, এটাই তো স্বাভাবিক। সেটার জন্যও নির্দেশনা দিতে হয়েছে হাইকোর্টকে।

হায় সেলুকাস! মনে হয় কোর্টের নির্দেশনার আগে আমাদের রাস্ট্র পরিচালকরা জানতেনই যে অবৈধ দখল করা যাবেনা, শিক্ষক ছাত্রীকে যৌন হয়রানী করতে পারবেন না, রিমান্ডে নিয়ে কাউকে নির্যাতন করা যাবেনা, যেখানে সেখানে অবৈধ বিলবোর্ড লাগানো যাবেনা। তানাহলে এসব ব্যাপারে হাইকোর্টকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হবে কেন? তাহলে এদেশে সরকারের কাজটি কি? যারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন, তাদেরকে কেন জনগণের পয়সায় লালন পালন করা হবে?

বাস্তবতা হচ্ছে, হাইকোর্ট কর্তৃক চোখে অঙ্গুলী নির্দেশ করে নির্দেশনা দেবার পরও মানা হচ্ছেনা। সত্যি যদি আমরা সচেতন হতাম, দেশের জনগণ আর সরকার যদি সত্যি নিজের নূন্যতম দায়িত্বটুকু পালন করত, তাহলে এত ক্ষুদ্র ব্যাপারে নির্দেশনা দেবার কোন প্রয়োজনই ছিলনা। বিবেক সংরক্ষণের দায়ভার শুধূই কি হাইকোর্টের? করনীয় সাধারণ কাজগুলো করার জন্য যেখানে হাইকোর্টের নির্দেশনার অপেক্ষা করে করে আমরা নিজেদের অভ্যস্ত করে তুলছি, সেখানে আমার আশঙ্কা হয়, কবে থেকে না জানি এদেশের মানুষগুলো বিবেক বোধকে পূর্ণ জলাঞ্জলি দিয়ে ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক, ব্যবসায়িক, অফিসিয়াল সব ব্যাপারেই কোর্টের নির্দেশনার জন্য বসে থাকে?

বৃহষ্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১০

তবু বলি, এসো ভাই! সামনে আগাই।

মানুষই ভুলগুলো, করে যে ধারন
শিলা-নুড়ি ঠোকাঠুকি, খুব সাধারন
বিবেকটা আছে বলে, শোধরাতে চাই
তবু বলি, এসো ভাই! সামনে আগাই।

ঈমাণ বাচাঁনো নিয়ে যেথায় সংশয়
স্বাধীনতা নিয়ে আজ যেখানে ভয়;
সেখানে বিভেদে হবে শত্রুর জয়
শুদ্ধতা চাই, তবু মলিনতা নয়।

ছোট এক শিলা যদি ভাঙ্গে পাহাড়
এরচেয়ে দুঃখ বল,থাকে কোথা আর?
শিলা নাকি পাহাড়, কোনটাকে চাই?
শুধু জানি পাহাড়েতে আছে মোর ঠাঁই।

শেখানো সবক সব গিয়েছি ভুলে
পাতা নয়, ফিরে যাই চল সেই মূলে।
সত্য প্রকাশে কেন কুন্ঠিত মম
বিশ্বাসী কভু নাহি হয় অক্ষম
হৃদয়ে কি আল্লাহর ভয় টুকু নাই?

ভাগ্যে যদি আসে পরাধীনতা
সেদিন কে রাখে মনে তোমার কথা?
ভীত যদি আমাদের হয় শক্ত
ভুলগুলো নিয়ে ভেবো, শত ওয়াক্ত
মলিনতা- জীর্নতা এখন না মানায়।

কান পাত হে মুমিন,শুনতে কি পাও?
আসছে ভীষণ ঝড়, প্রস্তুতি নাও।
পাতা হয়ে বৃক্ষকে সামলাতে ভাই
সীসা ঢালা প্রাচীরটা আর ঘন চাই।

সন্তানের অতি আবেগী ভালোবাসা যেন মায়ের কষ্ট, বেদনা বা মৃত্যুর কারন না হয়?

ইন্টারনেটে absent আজ প্রায় মাস খানেক হলো। আসলে বাসার লাইনটি বদলাবার অভিপ্রায়ে সেই যে লাইন বন্ধ করেছি; নতুন লাইনও নেয়া হয়নি আর পুরোনো লাইনটিও কাটা। তবে দূরে থাকলেও বুঝতে পেরেছি একটি ব্যাপারে কেউ কেউ ঝড় তোলার চেষ্টা করেছেন। ঝড়ের সেই উত্তাপ আমার সেল ফোন দিয়ে প্রবেশ করেছে আমার ক্ষুদ্র এ মস্তিস্কেও। বেশ কয়েকটি ফোন পেয়েছি, রাফে ভাই এসব কি চলছে? আর্তনাদ করে একজন বললন, ” যা চলছে, তা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আর যারা করছেন, তারাও এতটাই ডেডিকেটেড, কিছু বলতেও পারছিনা।” বাধ্য হয়েই সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে দেখলাম, আসলে অন্ধ আবেগী ভালোবাসার নামে এমন কিছু চলছে,যা অত্যন্ত অনুচিত, অসাংগঠনিক, আবেগপ্রবণ, ব্যক্তিনির্ভর। এ আন্দোলনকে যিনি ভালোবাসেন, সত্যিই যদি সংগঠনকে বুঝে থাকেন, তার কাছে কখনই এটি কাম্য হতে পারেনা। এই সংগঠনে আমি কিছু দিতে পারি আর না পারি, কিন্তু আন্দোলনের গোপনীয়তা আর ভাবমূর্তি সংরক্ষন আমার পবিত্র দায়িত্ব। সেটি না করে কিছূ প্রিয় ভাই অত্যুৎসাহে, আবেগের বশবর্তী এমন কিছু করছেন, যা দেখে আজ সত্যিই আমার হৃদয় হাহাকার করে উঠেছে। তাদের কথা, নোট আর কমেন্টগুলো পড়ে কখন যে চোখে পানি চলে এসেছে, বুঝতেই পারিনি। আল্লাহ! তথ্য প্রযুক্তির যুগের দোহাই দিয়ে তোমার এ আন্দোলনের অভ্যন্তরীন কথাগুলো আজ আমরা নোট আকারে নেটে ছেড়ে দিচ্ছি, অনুচিত কমেন্ট করছি যেন মানুষ আমাকেই গালি দিতে পারে। তোমার কাছে সাহায্য না চেয়ে এমন সব মানুষদের জানাচ্ছি, যারা এটি সমাধানে কোন ভূমিকাই রাখতে পারবেনা। সমস্যা হয়ে থাকলে তা একান্তই সাংগঠনিক আর তার সমাধানও এ সংগঠনের সংবিধানেই আছে কিন্তু ঢাক ঢোল পিটিয়ে, ইন্টারনেটে গ্রুপ করে কি আমি বিপুল উৎসাহে সবাইকে এটাই জানাতে চাইছি আমার দলের আভ্যন্তরীন সমস্যা কি ধরনের, বলতে চাইছি, আসুন!পাঠক, আপনারা সমাধান দিয়ে যান। আসুন! জনমত গঠন করে সবাই মিলে নিজেদের মত সমস্যার সমাধান করি। আসুন! কিছূ না পারি নিজের সংগঠনকে নিয়ে কিছু গীবত, হাস্য রসিকতা করি আর পচা ডিম গুলো নিজের দিকেই মারি!

আমি যেহেতু এখন আভ্যন্তরীন কেউ নই, সুতরাং সমস্যাটি আসলেই সমস্যা কিনা, সেটি নিশ্চিত না হয়ে কখনই বলবনা, সমস্যা চলছে। বরং সাবেকদের তো কোন রুপ মন্তব্য থেকে বিরত থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে বলছি মানুষ পরিচালিত সংগঠনে সমস্যা না হওয়াটাই তো অস্বাভাবিক। আজ প্রায় আঠার বছর আমার সাংগঠনিক জীবনে আভ্যন্তরীন কয়েকটি সমস্যা দেখেছি, তবে সমাধান হয়নি, এমনটি পাইনি। আর কিন্তু প্রশ্নটি তখনই উঠবে, যখন তার কোন সমাধান পাওয়া যাবে না। আর সমাধান না হলেও বা কি? কখনও তো এমন দেখিনি, ঘরের সমস্যা বাইরে প্রচার হচ্ছে, চিঠি লিখে/ মেইল করে পত্রিকায় পাঠানো হচ্ছে। বরং অন্যের গোপনীয়তা আমার কাছে আমানত। অনেক সময় দেখেছি, সদস্যদের কোন সমস্যার কথা সাথী-কর্মী তো দূরে থাকুক, প্রয়োজন না হলে অনেক সদস্যও ভাইকেও জানানো হোত না। কেননা তার সমস্যাটিও আমার কাছে আমানত আর সেই আমি কিনা আজ উপযাচক হয়ে ঘরে ঘরে সেগুলো পৌছে দিচ্ছি? প্রিয় ভায়েরা যারা এটি করছেন, তাদের জন্য বিনীতভাবে বলতে চাই, দায়িত্বশীলরা কোন ব্যক্তি নন। একটি প্রতিষ্ঠান, এই আন্দোলনের প্রতীক। তাদের নিয়ে কোন কথা আলোচনiর আগে এটি ভাবতে হবে যে, আমার প্রাণপ্রিয় আন্দোলন এত ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে কিনা? একটি বিশ্বাস আমার হৃদয়ে বদ্ধমূল যে, এটি ঐতিহাসিক সত্য, পবিত্র এ সংগঠণকে যারা ব্যক্তিগত খেয়াল খুশীর বাহনে পরিণত করেছে, সিস্টেমের বাইরে গিয়ে অপ-সিস্টেম চাপিয়ে দিতে চেয়েছে, নিজের ব্যক্তিগত দুর্বলতার কারনে এ আন্দোলনের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করেছেন, তারা নিজেদের অসম্মানিত করেছেন। কিন্তু শুধু মাত্র নিয়ত ভালো নয়, উদ্দেশ্য মূলক বলে মনে হয় ইত্যাদি বলে জনমনে সন্দেহ ঘণীভূত করা, লোকদের মতে আনার প্রচেষ্টা, এটি কি সিস্টেম বহির্ভূত নয়? কিন্তু মনের অজান্তে আমার কোন ভূমিকার কারনে আমিও কি সেই ব্যক্তিদের কাতারে চলে যাচ্ছি কিনা, সেটাও আত্মসমালোচনার প্রয়োজন আছে। আমিও কি তাদের সারিতে নিজেকে কল্পনা করতে পারি? দোহাই লাগে! আল্লাহকে ভয় করুন। তার উপর একটু আস্থা রাখুন। কোন সমস্যা মনে হলে দোয়া করুন যেন তার সমাধানটিও যেন সুন্দরতম হয়।

কাঁচে ঘেরা বহুতল বাড়ীর ভেতরে কেউ যদি কাঁচের প্লেট ভেঙ্গে ফেলে কিংবা একটি ফোরের ছাদ ধ্বসিয়ে দেয় অথবা ধরা যাক পুরো একটি পিলারই ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে কেউ বাড়ীটিকে দুর্বল করতে চায়, একজন শুভাকাঙ্খী বা ঘরের বাসিন্দা হিসাবে আমি সেটিকে অপছন্দ করতে পারি, নিন্দা করতে পারি, কিন্তু আমার বাড়ীটির আভ্যন্তরীন কোন দুর্বলতা কি শত্রুর কাছে মাইকিং করে প্রকাশ করতে পারি? নাকি সেটিকে প্রতিহত করবার জন্য বাহির থেকে ঢিল ছুড়ে পুরো বাড়িটির সমস্ত কাচের জানালা ভেঙ্গে জানাতে হবে যে, এর ভেতরে একটি কাঁচের প্লেট ভাঙ্গা হয়েছে? আর এখন যা হচ্ছে, তা রীতিমতো বাড়ী লক্ষ্য করে কামান দাগার মতো। একদিন হয়তবা ভাঙ্গা ফ্লোরটিও মেরামত হবে, পিলারটিও নতুন করে গড়া যাবে। আপনাদের কথা অনুযায়ী, কেউ হয়তো সাংগঠনিক ক্ষতি করেছেন কিন্তু ভালোবাসার নামে আপনারা পবিত্র আন্দোলনের অটুট ভাবমূর্তির যে ক্ষতি করছেন, তা কখনই শোধরাবার নয়। ভেতরে ভাঙ্গা গড়ার জন্য যে কেউ দায়ী হতে পারেন, কিন্তু তাই বলে আমার বাসস্থানকে সবার সামনে কুৎসিত করে তুলে ধরার কি যুক্তি থাকতে পারে? আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, সংগঠনের ইমেজকে ফেসবুকে উন্মোচনের এ অপরাধের জন্য আমি কখনই আল্লাহর কাছে শাস্তি হতে রেহাই পাবো না। যুক্তি দেবার প্রয়োজন নেই, কারন শাস্তি বা ক্ষমা করা কোনটির এখতিয়ারই আমার নেই। হয়তবা এ সমস্যার একটি সমাধান হয়ে যাবে, আরও অটুট হয়ে পাব চিরাচরিত রুপ, গতিশীলতা, জান্নাতী পরিবেশ। কিন্তু আমার লেখা, আলোচনা, কথা কিংবা কোন নোটে যদি একজন সাথী বা কর্মী নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে, কোন শুভাকাঙ্খী যদি মুখ ফিরিয়ে নেন, কোন অভিভাবক যদি তার সন্তানকে পবিত্র এ আন্দোলনকে ভুল বুঝে বাধা দেন আমারই কারনে, কঠিন সে বিচারের দিনে তারা যখন কৃত অপরাধের ব্যাখ্যা হিসাবে আমার কাজকেই রেফারেন্স দেবে, আমাকেই দাড় করাবে কাঠগড়ায়, সেসবের দায় ভার আমি নেব কি? জানি না, তবে রাব্বুল আলামীনের বিচার যে বড়ই ভয়ানক।


কারও প্রতি আমার কোন ফ্যাসিনেশন নেই। কখনই ছিলনা। দায়িত্বশীলকে ভালোবাসি কিন্তু তার অর্থ এই নয় তিনি সংগঠনের চাইতে বড়। বক্তিকে ভালোবেসে আমি যেমন সংগঠনের ক্ষতি করতে পারিনা, পারিনা সংগঠনের ভেতরে অস্থিরতাকে ছড়িয়ে দিতে নিজেকে প্রভাবক হিসাবে ব্যবহার করতে। ঠিক তেমনিই পরিনা কোন কাজকে অসাংগঠনিক মনে হলে, সেটির সমাধানে অসাংগঠনিক উপায় অবলম্বন করতে। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, কোন গ্রুপের দরকার নেই, নোটের প্রয়োজন নেই। যা লিখেছেন, সেটিকেও বিদায় দিন। কারন আপনার নোটের পাঠকরা কেউ-ই আভ্যন্তরীন সমাধান দিতে পারবেনা। শুধু আপনার উর্ধ্বতন দায়িত্বশীলকে আপনার মনের কথা গুলো শেয়ার করুন, সেখানেই আপনার দায়িত্ব শেষ। কোন সমস্যা মনে হলে সেজন্য কার্যকরী পরিষদের ভাইয়েরা আছেন, সর্বোচ্চ ফোরাম সদস্য ভাইরা আছেন। আছেন সদা পাহারাদারের ভূমিকায় সম্মানিত সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিবৃন্দ,তারা পরামর্শ দেবেন। কিন্তু কোন সমস্যার কথা অধস্তন সাথী-কর্মী বা বাইরের কারও কাছে কখনই নয়, কোনদিনও নয়, একটি বর্ণও নয়। এমনকি নিজেদের ভেতরেও পারস্পারিক আলোচনাও নয়। কারন বিশ্বাস করুন, গোনাহ ছাড়া এ পন্থায় কোন সমাধান নেই। আবার বলে যেতে চাই, কিন্তু আমার লেখা, আলোচনা, কথা কিংবা কোন নোটে যদি একজন সাথী বা কর্মী নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে, কোন শুভাকাঙ্খী যদি মুখ ফিরিয়ে নেন, কোন অভিভাবক যদি তার সন্তানকে পবিত্র এ আন্দোলনকে ভুল বুঝে বাধা দেন আমারই কারনে, কঠিন সে বিচারের দিনে তারা যখন কৃত অপরাধের ব্যাখ্যা হিসাবে আমার কাজকেই রেফারেন্স দেবে, আমাকেই দাড় করাবে কাঠগড়ায়, সেসবের দায় ভার আমি নেব কি?

আমার হৃদয়ের প্রতিটি রক্ত কনায় এ বিশ্বাস বদ্ধমূল, শত শহীদের এ আন্দোলনের অভিভাবক স্বয়ং আল্লাহ। তিনিই একে রক্ষা করবেন। এ আন্দোলন যদি দারুন শক্তিশালী হয়, এই সংগঠন বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসের বিজয়ী শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়, বাংলাদেশের দুই তৃতীয়াংশ ছাত্রও যদি এর সমর্থক হয়ে যায় আর আমি যদি নিজের শাস্তিটুকু না এড়াতে পারি বা জান্নাত নিশ্চিত করতে না পারি, সংগঠনের সফলতায় আমার কিইবা আসে যায়? দায়িত্বশীল কে হলো না হলো আর সিস্টেম কে ফলো করলেন আর না করলেন, তার তর্ক বিতর্ক বিচারের কাঠগড়ায় মাফ পাওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে কি? চুড়ান্ত সফলতাই যদি না পেলাম, তবে সংগঠনের শত কল্যানের চিন্তায় কিবা আসে যায় আর এসব নোটের মূল্যই বা কি আছে? নিজের মুক্তির ব্যবস্থা তো নিজেকেই করতে হবে। আর এজন্য কাজ করে যাওয়া ছাড়া ভিন্ন পন্থা আছে কি?

আসুন না। আরেকবার আত্ম সমালোচনা করি। আল্লাহ রাহীম, তিনি করুনাময়, তিনি রহমান। তিনিই পারেন অনেক গুরুতর হলেও তা ক্ষমা করতে। যাবার আগে আবার বলতে চাই, সন্তানের অতি আবেগী ভালোবাসা যেন মায়ের কষ্ট, বেদনা বা মৃত্যুর কারন না হয়?

রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০০৯

প্রতিক্রিয়াঃ বাংলাদেশের বিরল সৌভাগ্যঃ বিংশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ এখন বাংলাদেশে

বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষের অপার সৌভাগ্য যে বিংশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ এখন বাংলাদেশে তাশরীফ এনেছেন। তার দরবার শরীফ রাজারবাগ। তিনি দ্বীন ইসলামকে নতুন ভাবে জিন্দা করার জন্য তার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও সম্প্রতি তার খাস মুরিদদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা জামাতীরা দিলকুশার বক ভেঙ্গে তাকে নাকাল করবার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। তার প্রচারিত পত্রিকা "আল এহসান" এখন ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে তার নিসৃত বানী প্রচার করছে। তার নামটি নিশ্চয়ই জানতে চাইবেন..................একটু বড় হলেও জানা জরুরী
খলীফাতুল্লাহ
খলীফাতুর রসূলিল্লাহ
ইমামুশ শরীয়ত ওয়াল তরীক্বত
ইমামুল আইম্মাহ
মুহইস সুন্নাহ
কুতুবুল আলম
মৃজাদ্দিদে আযম
হুজ্জাতুল ইসলাম
ছাহিবু সুলতানুন নাছির
আওলাদে রসূল
মওলানা
হযরত
ইমাম
সাইয়্যিদ
মুহাম্মদ দিল্লুর রহমান
আল হাসানী
ওয়াল হোসাইনী
ওয়াল কুরাইশী
মুদ্দা জিল্লুহুল আলী
মুর্শিদ ক্বিবলা, রাজারবাগ শরীফ।


তার অলৌকিক কারামত সমুহ না জানলে আপনি সত্যিই বাংলাদেশী হিসাবে দারুণ মিস করবেন, হতভাগা আর ধ্বংসপ্রাপ্তদের মাঝে শামিল হয়ে যেতে পারেন। তার কারামতসমুহ...................

১. হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-তোমাদের মুর্শিদ ক্বিবলা জান্নাতী, তোমরাও জান্নাতী
২. বরিশালে বিবির পুকুর পাড়ের সেই মাহফিলে যা হয়েছিল॥
৩. রাজারবাগ শরীফের মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর উসীলায় বোমাটি বিস্ফোরিত হয়নি ॥ হিফাযত হয়েছে শত-সহস্র মানুষ
৪. লাওহে মাহ্ফূযে জ্বলজ্বল করছে মুজাদ্দিদুয্ যামান লক্বব মুবারকটি
৫. খাগড়াছড়ির দূর্গম ও শঙ্কাজনিত যাত্রা পথের পুরোটিতেই মহান আল্লাহ্ পাক-এর তরফ থেকে খাছ গায়েবী মদদ রূপে আলাদাভাবে, খাছ করে সাদা কবুতর ও ডাহুক পাখির ছূরতে ৭০ হাজার ফেরেশতা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলীসহ গোটা সফরসঙ্গীগণকে বেষ্টন করে উড়ছিল
৬. হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর তরফ থেকে স্বপ্নযোগে টাকা পেলেন ভোলাহাটের মাওলানা মুহম্মদ মুহসিনুর রহমান
৭. হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর উসীলায় নিষ্প্রভ বাতি জ্বলে উঠে দাউ দাউ করে এবং দীর্ঘ প্রায় তিন ঘন্টা আলোদান করে তেলহীন চেরাগ
৮. চোখে বুছা দেয়া সুন্নত স্বপ্নে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজেই সত্যায়ন করলেন মুজাদ্দিদে আযমের তাজদীদী ফতওয়া ও আমল মুবারক
৯. হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তরফ থেকে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসার স্বীকৃতি প্রদান
১০. রাজারবাগ শরীফের হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর ফুঁক ও তাবীজের দ্বারা আশ্চর্য রকমের ফায়দা হাছিলের অগণিত ঘটনাসমূহের মাঝে কয়েকটির বর্ণনা-
১১. স্বপ্নে দেখে পানিপড়া দেয়ায় আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েল হয়ে গেল আর্সেনিকমুক্ত
১২. স্বপ্নে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন আমি রাজারবাগ শরীফে যাচ্ছি
১৩. ইনিইতো বর্তমান যামানার মহামান্য মুজাদ্দিদ ও সম্মানিত আওলাদে রসূল
১৪. হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর ওয়াজ শরীফ শুনে বিদ্রুপ ও বিদ্বেষ বশতঃ মাহফিল ত্যাগ করায় বিরোধীরা একই স্থানে ঘুরপাক খেয়েছে সারারাত
১৫. হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর খিদমতে হাদীয়া দেয়ার উছীলায় ফসলের হিফাযত ও বরকত লাভ এবং সংসারের অভাবিত উন্নতি
১৬. উনিইতো আমাকে সেদিন ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া মাত্র ধরে রেখেছিলেন
১৭. একমাত্র উনার মাধ্যমে যারা আমার কাছে আসবে আল্লাহ পাক তাদেরকেই পূর্ণ নিয়ামত দান করবেন!
১৮. হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর উসীলায় কবরে হলনা সুওয়াল-জাওয়াব॥ সুসংবাদ প্রদান করা হলো কিয়ামত অবধি
১৯. যমীনে সর্বশ্রেষ্ঠ ইস্মে আ'যম
২০. হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর পড়া পানি পান করে মুহূর্তে সুস্থতা লাভ
২১. মুজাদ্দিদে আ'যম-এর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন হাফিজুল হাদীছ আল্লামা রুহুল আমিন বশিরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি
২২. মুজাদ্দিদে আ'যম-এর স্মরণ রহমত প্রাপ্তির কারণ
২৩. মহামান্য মুজাদ্দিদে আযম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী সম্পর্কে একজন ওলীআল্লাহ্র ভবিষ্যদ্বানী
২৪. খাছ কারামতে এক নিমিষের মধ্যে বাসটি ভাল হয়ে গেল
২৫. হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক খিলাফত প্রাপ্তি

তার সম্পর্কে আরও জানুন Click This Link


দলে দলে যোগ দিন। আরও জানতে যোগাযোগ করুন.........................http://www.al-ihsan.net/

প্রতিক্রিয়াঃ এ সর্বনাশের দায় কার?


সত্যি সেলুকাস! কি বিচিত্র এ দেশ! আজকে আবার মনে মনে বলে উঠলাম নগরীর একটি হতবাককর দৃশ্য দেখে।
ঢাকার শ্যামলী আর শের ই বাংলা নগর জুড়ে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দানকারী হাসপাতাল রয়েছে। যেমন-
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট,
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল,
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট,
জাতীয় কিডনী ইনস্টিটিউট,
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট
শিশু হাসপাতাল
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ট্রমা সেন্টারসহ অনেকগুলো হাসপাতাল।
সারা দেশ থেকে এসব সেন্টারে সিরিয়াস রোগীদেরকে রেফার করা হয়ে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ এ এরিয়াতে
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্থোপেডিক হাসপাতাল নিটোর বা পঙ্গু হাসপাতাল, যেখানে হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। দেখলাম, এর পাশ ঘেসে একশত গজ দূরেই বসানো হয়েছে বিরাট গরু ছাগলের হাট। তার চেয়েও আশ্চর্য জনক হচ্ছে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, যেখানে সারা বাংলাদেশ হতে সবচাইতে খারাপ চক্ষু রোগীগুলো রেফার হয়ে আসে এবং জটিল সব অপারেশন হয়ে থাকে। তার কোল ঘেসে বসানো হয়েছে আরো একটি গরুর হাট। স্পর্শকাতর ও দূরারোগ্য চিকিৎসার আশ্রয়স্থল এ এরিয়াতে কিভাবে হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হলো, তা আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্কে ধরেনা। কিন্তু দশ দিনের হাটের পরে একমাস ধরে য়খন গরুর মল-মূত্র আর বিশাল রোগ জীবানুর এ ভান্ডার শুকিয়ে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে, তার আফটার এফেক্ট কি অনুমতি দাতাদের সামান্য চিন্তাতেও আসেনি। কিন্তু যারা অল্প কটি টাকার লোভে স্পর্শকাতর স্থানে চতুস্পদ প্রানীর হাট বসালেন, তাদের মাথায় যদি চতুস্পদ প্রানীগুলোর সমপরিমাণ ঘিলুও ফাংশনাল থাকত, তবে আমার মনে হয়, সিদ্ধান্ত নেবার আগে এসব নিয়ে একটু হলেও পুণবিবেচনা করতেন? জানিনা এর ফল কত জন অসহায় রোগী ভুগবে? তবে এর প্রভাবে হয়ত;
(১) নতুন কিছু অসহায় রোগী আরও মাস খানেক হাসপাতালে বেশি রাত কাটাবে
(২) হয়তবা ইনফেকশনের কারনে কয়েকজনের অঙ্গহানি হবে বা চক্ষু নষ্ট হবে
(৩) হাসপাতালে সামান্য রোগের চিকিৎসা নিতে এসে নতুন ভাবে কিছু শিশু শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ নিয়ে দুঃসময় অতিবাহিত করবে আর বাবা মাকে নির্ঘুম রাখবে।
(৪) হয়তবা বরাবরের মতো কিছু রোগী ডাক্তারদের গালি গালাজ করে দেশের চৌদ্দ গোষ্ঠি উদ্ধার করবে, ইন্ডিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থার গুন কীর্তন করবে।
(৫) ডাক্তাররা গলদঘর্ম হয়ে ইনফেকশনের জন্য রোগী আর তাদের এটেনডেন্টদের দায়ী করে দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করবে।

প্রতিক্রিয়াঃ চাটার দলের গবেষণাঃ বঙ্গবন্ধু খলিফাতুল মুসলিমিনের একজন!!??

প্রেস বিজ্ঞপ্তি-

বঙ্গবন্ধু খলিফাতুল মুসলিমিনের একজন

‘পবিত্র কুরআন-হাদিসের আলোকে খলিফাতুল মোসলেমীন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন খলিফাতুল মুসলিমিনদের একজন। মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বশূন্য অসহায় দরিদ্র মুসলমান তথা সারা বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য বঙ্গবন্ধুর আপসহীন লড়াইয়ের কারণে বঙ্গবন্ধুই সারা বিশ্বের মুসলমানদের একমাত্র অভিভাবক ছিলেন।

তারা বলেন, আমাদের ঈমানই হলো ধর্মনিরপেক্ষতা(ধর্মনিরপেক্ষতা একটি কুফরি মতবাদ)। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধিতা করেন তারা কুরআনকে অস্বীকার করেন। তারা বলেন, ‘বাংলাদেশ-জিন্দাবাদে’ কোনো ফজিলত নেই কিন্তু ‘জয় বাংলা’ বললে বরকত ও ফজিলত আছে।

গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বার্তাঙ্গনের উদ্যোগে আয়োজিত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক ভোরের ডাকের নির্বাহী সম্পাদক নাসির উদ্দিন চৌধুরী। আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম অনুষ্ঠানস্খলে উপস্খিত হলেও সাড়ে ১০টার অনুষ্ঠান সাড়ে ১১টায়ও শুরু না হওয়ায় তিনি চলে যান। অন্যান্যের মধ্যে সুর্প্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি শ ম রেজাউল করিম, বইটির লেখক হায়দার আলী চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আফাজ উদ্দিন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ আখতার ইউসুফ, বিএফইউজে মহাসচিব আলতাফ মাহমুদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক পথিক সাহা ও সাংবাদিক শাহীন ইসলাম চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তব্য না রাখলেও বার্তাঙ্গনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

আইন প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্খলে আধা ঘন্টা বসে থাকার পর বের হয়ে যান। এ সময় আয়োজকরা অনুরোধ করলে অ্যাডভোকেট তিনি বলেন, ২০ মিনিট পর আমি আসছি। তবে তিনি আর ফিরে আসেননি।
হায়দার আলী চৌধুরী তার বই সম্পর্কে লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার গবেষণায় পেয়েছি, পবিত্র কুরআন-হাদিসের আলোকে ঈমানের প্রধান শর্তই হলো ধর্মনিরপেক্ষতা (*ধর্মনিরপেক্ষতা দাবী করাই কুফরী)। ধর্মনিরপেক্ষ না হলে ঈমানদার দাবি করা যাবে না। আর যাদের ঈমান নেই তারা মুসলমান নয়। সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষতা ঈমানের অঙ্গ। এটি পবিত্র কুরআনের শাশ্বত বিধান। তাই খলিফাতুল মুসলিমিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে উল্লেখ করে ঈমানি দায়িত্ব পালন করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘জয় বাংলা’ তে এত ফয়েজ, এত বরকত, এত ফজিলত পেয়েছি, যা ‘বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ’ এ পাওয়া যায় না। ‘বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ’ আমাদের ৩৫ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। তাই দেশ ও জাতির অগ্রগতির জন্য সব রাজনৈতিক দলের একটিই গান হওয়া উচিত- ‘জয় বাংলা’।

লাল-সবুজের মলাটে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত এই গ্রন্থে ১৩টি অধ্যায় রয়েছে। ১৩২ পৃষ্ঠার বইটির দাম লেখা হয়েছে ২০০ টাকা।

শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০০৯

বন্দী শৈশব


আমার এই ছোট্ট ঘরে
সূর্য ওঠে অনেক পরে;
ইট আর কাঠের খোঁপে
সবার আগে সূর্য ডোবে।

বহুতলে এ ঘর খানি'
এসি ছাড়া, ভীষণ গুমোট,
জেনারেটরে তেল ফুরোলেই
ভেজে এ পিঠ, শুষ্ক দুঠোট।

জানালায় নেই প্রকৃতি
আকাশ বিহীন, দেয়াল ঘেরা;
কার্নিশে নেই শালিক, চড়ুই
ডিশ আর নেটের তারে ভরা।

আমরা খুব শহুরে
ডিপ, পিসি, নেট হাতের কাছে;
গোটা দুই পাজেরো আর
জনা দশেক কামলা আছে।

আমাদের বেরুতে মানা
রাস্তাতে সব খারাপ ছেলে;
বেরুবার কি প্রয়োজন
গেমস, পিসি আর টিভি পেলে।

আশেপাশে মাঠ নেই, তাই-
পড়ার ঘরে ক্রিকেট খেলি;
চার, ছয় মারতে মানা
পাছে কিছু ভেঙে ফেলি।

সারাদিন পড়াশোনা, ব্যাচ
প্রাইভেট বিরামহীন;
ভুলেছি সেই যে কবে-
কাটিয়েছি ছুটির দিন।

চোখ দুটো ঝলসে ওঠে
চারিধারে ধুসর দেয়াল;
ধান ক্ষেত, টলটলে জল,
শেষ দেখেছি? নেইকো খেয়াল।

ঘাসগুলো কেমন সতেজ?
বৃষ্টি যখন ভেজায় তাদের;
টোনাটুনি বাঁধে বাসা;
খাবার আনে কেমনে ঠোঁটে?

হৃদয়ে খুব হাহাকার
আব্বু, চল! যাইনা মাঠে!
বোঝা না? কেমন তুমি?
নেইকো ছুটি অফিসটাতে।

কে এসব শুনবে বল?
নেইকো সময়, ব্যস্ত ভারী।
মন খারাপ হল না হয়
আমি কি আর কাঁদতে পারি?

ছকে বাঁধা বন্দী জীবন
নেই কো কোন ভিন্নতা।
সব থেকেও যেন নেই
হৃদয় জুড়ে শূণ্যতা।